শিরোনাম
প্রথমবারই ২০ আসনে হাতপাখা দ্বিতীয় অবস্থানে : একটি পর্যালোচনা

৭:০০ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ১, ২০১৯

প্রথমবারই ২০ আসনে হাতপাখা দ্বিতীয় অবস্থানে : একটি পর্যালোচনা

♦♦ শফকত হোসাইন চাটগামী ♦♦

প্রথমবারের মত সারা দেশের ২৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২০টি আসনে ২য় হয়েছেন হাতপাখার প্রার্থীরা।
প্রথমবার অংশ নিয়ে এটি কম কিসের??

#আসলে আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করিনা। আমরা করি এবাদতের রাজনীতি।
ক্ষমতার রাজনীতি করলে ইসলামী আন্দোলন আরো ২০ বছর আগেই ক্ষমতার ভাগ পেয়ে যেত। এমপি মন্ত্রী হয়ে যেতে পারতো। ইনু পিনুরা যেখানে ১০/২০ ভোট নিয়ে নৌকায় চড়ে মন্ত্রী হয়ে যান, ইসলামী আন্দোলন তার চেয়ে অনেক বেশী আসন কিংবা মন্ত্রীত্ব ভাগে পেতেন। আওয়ামীলীগ তো জানেই বিএনপিও জানে আমরা ক্ষমতার পাগল নই। এখনই ক্ষমতায় যেতে হবে, এখনই এমপি মন্ত্রী হয়ে যেতে হবে এমন উচ্চভিলাস আমাদের নেই। আমরা ধীরে ধীরে জনগনের সমর্থন আদায় করতে চাই। একপা দুপা করে এগুতে চাই। আমাদের রাজনীতি এদেশের শিকড়ে। খুব গভীরে আমাদের ভিত্তি। আমাদের কর্মীরা সবাই স্বেচ্ছাসেবী। সবাই নিজ পকেটের টাকায়, রক্ত ঘামের টাকায় রাজনীতি করে। নেতার কাঁধে পা দিয়ে, কিংবা নেতার টাকায় ভাড়াটে রাজনীতিতে ইসলামী আন্দোলন বিশ্বাস করেনা।

আবার আমাদের মাঝে কোন হতাশাও নেই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা দুনিয়ার জয় পরাজয়ের চেয়ে আখেরাতের জয় পরাজয়কেই মূখ্য মনে করে। একজন মুসলমান আজীবন নামাজ রোজার পর নগদে কিছু না পেলেও সে কিন্তু নামাজ রোজা ছাড়তে পারেনা। একইভাবে আজীবন ইসলামী রাজনীতি করে এমপি মন্ত্রী তো বহু দুরের কথা; আমরা আজীবন একজন মেম্বার না পেলেও এনিয়ে হতাশা কিংবা আপসোস নেই আমাদের মাঝে। এবারের নির্বাচনেও এমন জালজালিয়াতির খেলায় একটি আসনেও জিততে দেয়া হয়নি আমাদের। অথচ সুষ্ট নির্বাচন হলে ইসলামী আন্দোলন বরিশাল, বরগুনা, পটুয়ালীখালী, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অর্ধশত আসনে আমাদের প্রার্থীরা জিততেন। বরিশাল-৬ সদর আসনে আমাদের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম সাহেবের আসনটি তো শুধু ভোট ডাকাতিই হয়নি, সেখানে লুটতরাজ ও হাইজ্যাকারের মাধ্যমে হুজুরের নিশ্চিত বিজয় ছিনতাই করা হয়েছে। সেখানে দুপুরের আগেই ভোট বর্জন করলেই হুজুরকে ২য় দেখানো হয়েছে। এরকম মহা ডাকাতির নির্বাচন দেশে আর কখন হয়েছিল জানা নেই। বঙ্গবন্ধুর আবির্ভাব হয়েছিল ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকদের হাতেই আজ ভোটের অধিকার নিহত হল, লাশ হল। এটি ভাবতেও অভাক লাগছে।

#তবে আমরা নির্বাচনকে যে অর্থে গ্রহণ করেছি সে হিসেবে আমরা সফল। মানুষ হাতপাখা প্রতীক এবং ইসলামী আন্দোলনের স্বচ্ছ রাজনীতির দাওয়াত গ্রহন করেছে। আমরা ইসলামের পক্ষের রাজনীতির দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌছাতে পেরেছি। অন্তত কিছু মানুষ সত্য এবং সুন্দরের পক্ষে ইসলাম ও মানবতার পক্ষে ভোট দিতে পেরেছে। আমরাও আল্লাহর ধরপাকড় থেকে রেহাই পাব আশা করি।

#আপনি যখন বলবেন, বাজারের এই এই বিষয়, এই এই বস্তুগুলো হারাম, অবৈধ এবং ভেজাল। মানুষকে যখন বলবেন এসব আপনারা বর্জন করেন। তখন অবশ্যই আপনাকে তার বিকল্প দেখিয়ে দিতে হবে। বলতে হবে এটি গ্রহণ করবেন না, এটি গ্রহণ করেন। বিকল্প দেখানোর আগে কোন বিষয় ও কোন জিনিষকেই আপনি বজর্ন করার কথা বলতে পারবেন না। তাই ইসলামী আন্দোলন আজ আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিকল্প তথা এই দুই শক্তির বাইরের একমাত্র নির্ভেজাল ফ্লাটফর্ম।

#দুই দল কিংবা দুই জোটের চরিত্র কিন্তু একই। এরা আজ ডিজাটাল কায়দায় ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু ওরাই ক্ষমতায় থাকতে ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। বেশকম এইটুকু “এরা ডিজিটাল কায়দায় আর ওরা এনালগ”

#আচ্ছা, আওয়ামীলীগ যেভাবেই হোক ক্ষমতায় না এসে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে গেলে ইসলামের কি এমন উপকার হত?? কি লাভ হত আমাদের??
এবার বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এলে আলেম ওলামা ইসলাম তথা কওমীদের বারোটা বাজাত এই বিএনপি জামায়াত। দেখছেন তো! এখনই কি অবস্থা ওদের। আল্লামা শফি, পীর সাহেব চরমোনাই এমনকি আলেম ওলামাদের ইচ্ছেমত গালি দিচ্ছে ওরা। এদের উপর আজাব গজবের স্টীম রোলার চলছে। এতেই যদি আমাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ তাদের, তাহলে ক্ষমতায় এলে কি করতো আল্লাহই ভাল জানে। আসলে বিএনপির চেয়ে কওমীদের উপর জামায়াতিদের ক্ষোভই বেশী। বিএনপির কাঁদে ভর করে এই সাহাবা ও পীর মাশায়েখ বিদ্ধেষী জামায়াতিরা কওমী, তাবলীগ, হেফাজতসহ এদেশের আলেম ওলামার চির শত্রু।

#ভোট দিতে না পারায় দুঃখ না থাকলে বলতাম, ওই জোটের চেয়ে এই জোটই ভাল। ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার কারণেই ক্ষমতাসীনদের প্রতি ঘৃণা হচ্ছে। অন্যথায় তসলীমা নাসরিনের আইনজীবি কাদিয়ানী কামাল হোসেনের চেয়ে শেখ হাসিনা অনেক ভাল। বিএনপি কেমন ইসলামী মুল্যবোধ লালন করে জানিনা, যারা একজন ভবঘুরে ও জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে জোটের প্রধান করেন। যিনি আপাদমস্তক ইসলাম বিরোধী। তার স্ত্রীসহ পুরো পরিবার কাদিয়ানী। কাদের ছিদ্দিকীর ভাই মুরতাদ লতিফ ছিদ্দিকীর কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে? আর এই কাদের ছিদ্দিকীই ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে আল্লামা শফিকে দোষারোপ করে বক্তব্য দেয়।

#আল্লাহ একদিকে বড় বাঁচা বাঁচাইছে। অন্যথায় এই মওদুদী, কাদিয়ানী, নাস্তিক আর কথিত জাতীয়তাবাদীরা মিলে অন্তত কওমী, হেফাজত, তাবলীগ, চরমোনাইদের বিরুদ্ধে কি কি পদক্ষেপ নিতেন আল্লাহই ভাল জানেন।

সতর্ক বার্তা: জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর পত্রিকা ধর্ম, রাষ্ট্র ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উস্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হল। কর্তৃপক্ষ আপনার আপত্তিকর মন্তব্যের মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন। আপত্তিজনক কোন মন্তব্যের দায়ভার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ নেবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ


নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৪৪
  • দুপুর ১১:৪৮
  • বিকাল ৩:৫৫
  • সন্ধ্যা ৫:৩৬
  • রাত ৬:৫০
  • ভোর ৫:৫৬
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক: শফকত হোসাইন চাটগামী
বাঁশখালীর খবর ও জীবন্ত কাগজ একই প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ সৌদিয়া মার্কেট, বাঁশখালী পৌর সদর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: 01716741012
ইমেইল: jebontokagoj@gmail.com  ।।  safkat09@gmail.com

Developed by: NEXTZEN-IT
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ।। জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকারী জীবন্ত কাগজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত অনুমতি ও কার্টেসি বিহীন কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বিধিগত অপরাধ।