শিরোনাম
শোকরানা সমাবেশ : একটি পর্যালোচনা !

৬:৪৯ অপরাহ্ণ , নভেম্বর ৫, ২০১৮

শোকরানা সমাবেশ : একটি পর্যালোচনা <<<শফকত হোসাইন চাটগামী>>>

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের একটি আস্থার ঠিকানা। ধর্মীয় ইস্যুতে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছিল এই সংগঠন। এর আগেই ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যুতে আরো বহু ধর্মীয় সংগঠন এবং প্লাটফরম গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এসব সংগঠন শেষ পযর্ন্ত আর ঠিকে থাকেনা। হারিয়ে গেছে সেই সব সংগঠন। যাদের মধ্যে আলোচিত সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ, ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি, তানজীমে আহলে হক বাংলাদেশ ও তাসলিমা নাছরিন বিরোধী আন্দোলনে সিলেটে গড়ে উঠা সাহাবা সৈনিক পরিষদ এবং সর্বশেষ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের কতিপয় ব্লগার ও নাস্তিক কর্তৃক প্রিয় নবী (সা:) ও পবিত্র ইসলাম নিয়ে সীমাহীন কটুক্তি এবং অতি বাড়াবাড়িকে কেন্দ্র করেই দ্রুত উত্থান ঘটে হেফাজতে ইসলাম নামক এই সংগঠনের। ঘুরে ঘুরে একই লোকগুলোই ভিন্ন ভিন্ন নামে এলেও ধর্মীয় ইস্যুই ছিল এই সংগঠনগুলোর প্রেরণার জায়গা। যাই হোক ২০১৩ সালের পর থেকেই মুলত: হেফাজতে ইসলাম একটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত সংগঠনে রূপ নেন।
শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনার পর দমন পীড়ন এবং নিজেদের ভেতরের নানা সমস্যা নিয়ে হেফাজত ঝিমিয়ে পড়ে। আগের সংগঠনগুলোর মতই আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সাংগঠনিক হেফাজত। তবে চেতনার হেফাজত এটি কখনো ঝিমিয়ে পড়বে না। এটি থাকবে যুগ যুগ ধরে, কেয়ামত পযর্ন্ত। হয়তো ভিন্ন সাইনবোর্ডে ভিন্ন নামে আবারো কোন ইস্যুতে আরো জোরদার ভাবে ফিরে আসবে হেফাজতের নামে হারানো আমাদের ঈমানী চেমনা। আমর বিল মারুফ নাহি আ নিল মুনকারের এই দায়িত্ব এই জিম্মাদারী চলমান থাকবে ওলামাদের উপর, তৌহিদী জনতার উপর।

এবার আসি হেফাজত আওয়ামীলীগ মাখামাখি নিয়ে প্রসঙ্গ কথায়।
আসলে সেই ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ প্রথম বার ক্ষমতায় এসেই আলেম ওলামাদের উপর সেই সময় কিছু নাস্তিক মুরতাদের কু পরামর্শে জুলুম নির্যাতন চালায়। বহু ঘটন অঘটনের পর আলেম ওলামারা সরাসরি বিএনপি জামায়াত জোটে আশ্রয় নেন। কিন্তু এই বিএনপি জামায়াতও দীর্ঘ দিনের সংসার জীবনে ওলামায়ে কেরামের সাথে ভাল ব্যবহার করেনি। তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। মেনে নেয়নি কোন দাবী দাওয়া। কওমী সনদ, কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা, ধর্মদ্রোহীদের জন্য ব্লাশফেমী আইন, সংবিধান থেকে ইসলাম বিরোধী আইন বাতিলসহ অনেক মৌলিক দাবীর প্রতিই বিএনপি জোট সমাদর করতে পারেনি। ফলে তারা বাধ্য হয়েই বিএনপি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করেছে। অপরদিকে আজীবন বিএনপি জামায়াতকেই আলেম ওলামাদের সমর্থন আর দোয়া দিয়ে যেতে হবে এমন তো কোন চুক্তি নেই। তাছাড়া বিএনপিকে যদি আলেমরা সমর্থন করতে পারে, সেটি যদি দোষের না হয় তাহলে আওয়ামীলীগকে সমর্থন করলে সমস্যা কি? সেটি দোষের হবে কেন?
মূলত: আওয়ামীলীগ, বিএনপি দুদলই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
আমার স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বিএনপি জামায়াত আলেমদের ধরে রাখেনি বা ধরে রাখার কোন চেষ্টাও করেনি। তাই তারা পক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে।
তার পরও কথা থেকে যায়। আর সেই কথাটি হচ্ছে, কওমী আলেম ওলামাদের পক্ষে সনদের স্বীকৃতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। একটি সংবর্ধনাতেই এক শ্রেণীর মানুষের পাগলামি আর এলার্জি বেড়ে গেছে। যদিও এই সংবর্ধনায় বহু আলেম ওলামা যোগদান করেনি। এনিয়ে তৈরি হয় মতভেদ। তবুও সমালোচনাকারীদের সমালোচনা থেমে নেই। তারা বিভিন্নভাবে আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে আঘাত করেই চলছে। এভাবে সংবর্ধনা প্রশ্ন বিদ্ধ হলেও আপনাদের সমালোচনার অধিকার আছে বলে মনে করিনা। যারা বিএনপি কিংবা জামায়াতের সাথে যুক্ত। কারণ আপনাদের সাথে এখনো আলেমদের কিছু অংশ আছে। আবার দুই বাইরে যে অংশটি আছে পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বে সেটিই এখন সবচেয়ে বেশী শক্তিশালী। দুদলের লেজুড় বৃত্তি না করে দলটি দিন দিন এককভাবে সফলতার দিকে এগিয়ে চলছে।
####
হেফাজতের যে গুরুত্ব ছিল সেটি আস্তে আস্তে কমে গেছে। আল্লামা শফি ডাকলেই লাখ লাখ মানুষ নেমে আসবে বিষয়টি তেমন নয়; তবে ইস্যু ভিক্তিক ডাকে ধর্মীয় ইস্যুতে এখনো কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে তার ডাকে। শুধু তিনি নয়; ধর্মীয় ইস্যুতে যে কেউ ডাক দিলেই সাড়া দেন জনগন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিগত দিনগুলোতে আমরা সেটাই দেখে আসছি।
এদিকে বিভিন্ন বিষয়ে হেফাজত নিয়ে নানা বিতর্কের পর সর্বশেষ বিতর্ক শোকরানা মাহফিল। এই মাহফিলকে ঘিরে আরেকটি আপত্তির জায়গা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে আল্লামা আহমদ শফি সাহেব হুজুরের কথিত মোলাকাত। যারা এই মোলাকাত নিয়ে জলঘোলা করছেন তাদের প্রেক্ষাপট বুঝা দরকার। তাছাড়া সেটা মোলাকাত না হাতের ছোঁয়া ভিডিওটি বার বার দেখতে অনুরোধ করছি। তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ আলেম হিসেবে গতকালের সেই মুলাকাত কিংবা হাতের ছোঁয়ায় বড় ধরণের কোন অপরাধ হয়েছে বলে করিনা।
পর্দার বিধান লঙন করে আলেম ওলামার মজলিশে প্রধানমন্ত্রীর আগমন নিয়েও নানা বিতর্ক চলছে। আসলে এই বিষয়টি যুগ চাহিদার আলোকে কোন উপায় ছিলনা বলে মনে করি। এর পরও আল্লামা আহমদ শফি সাহেব হুজুর স্টেইজে বসেছিলেন অসহায় হয়ে! অনেকটা ঘোমটা দিয়ে। ভিডিও দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী স্টেইজে আসার পর প্রথমেই আল্লামা শফিকে সালাম দেন। কিন্তু আল্লামা শফি সাহেব হুজুর এতই বেখেয়াল ছিলেন যে তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করেননি। পরে অন্য কেউ হুজুরকে সজাগ করে দিলে তিনি নড়ে চড়ে বসেন। তার পরই যা হবার তাই হয়েছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, মুলত: এই পর্দা লঙন এবং মুলাকাত ও ছোঁয়া নিয়ে তিনি আমাদের চেয়ে হাজারগুনে বেশী টেনশনে ছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা পর্দার বিধান নিয়ে কোন ব্যক্তি দলিল নয়; শরিয়ত শরিয়তই। ঘটনা চক্রে আল্লামা আহমদ শফি সাহেব হুজুরের সাথে এমন দেখা সাক্ষাতেই কি শরিয়ত পাল্টে যাবে?
###
৪ নভেম্বরের শোকরানা সমাবেশে এদেশের কওমী আলেমদের ৫ ভাগও উপস্থিত হয়নি। শাপলা চত্বরে ৫০ লক্ষাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে মিডিয়ায় এসেছিল। কিন্তু এই শোকরানা মাহফিলে বড় জোর লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশী ছিল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মরতরা। যেখানে জামায়াত এবং আহলে সুন্নত দাবীদার লোকজন ছিল সবচেয়ে বেশী। কওমীরা এই শোকরানা মাহফিলের আয়োজক হলেও মাঠে কওমীদের চেয়ে লা কওমীই ছিল সবচেয়ে বেশী।
কওমী শিক্ষা বোর্ডের বহু বোর্ড তাদের প্রতিনিধিও পাঠায়নি। এমনকি দেশের বহু বড় বড় আলেম এই শোকরানা মাহফিলের পক্ষে ছিলনা। এমনকি অনেকের সমথর্নও ছিলনা। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ অনেকেই এই সমাবেশে যোগদানই করেনি। কিন্তু এত কিছুর পরই একটি কৌশলী শোকরানার কারণে পুরো কওমী সমাজকে গালাগালি করার যৌক্তিকতা কি?
এবার আসি আসল কথায়, শোকরানা সমাবেশে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে মুফতি রুহুল আমিন কিংবা ফয়জুল্লাহদের অতি বাড়াবাড়ি কোন কওমী সন্তান সমর্থন করেনা। কওমী জননী বলে শেখ হাসিনাকে মা ঘোষণা দেয়া হয়। শেখ হাসিনাকে মা ঘোষণা দেয়ার আপনারা কারা? আবার হাসনাত আমিনীরা আগামীতেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা দিয়ে দেয়ার এমন দালালির অর্থ কি? আসলে ওরা হেফাজত কিংবা কওমী জগতকে একটি আসন কিংবা একটি এমপির জন্য এমন নির্লজ্জ্ব দালালি খুবই হাস্যকর। এই আপনারাই মাত্র কয়েকদিন আগে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে জোর পুর্বক বিতাড়িত করে ক্ষমতা গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন। সরকারের বিভিন্ন দফতর আজগুবী ভাগভাটোয়ারাও শুরু করে দিয়েছিলেন আপনারা। আবার আপনারাই আজ সুর পাল্টে শেখ হাসিনার সৈনিক হয়ে গেছেন। সমস্যা ছিলনা, যদি আপনারা নিজেরা শেখ হাসিনার সৈনিক হয়ে যান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পুরো কওমী জগতকে আপনারা নিজেদের গোলাম মনে করে বিক্রি করার পায়তারা করলেন।
আপনারা সরকার কিংবা শেখ হাসিনার অনেক প্রশংসা করলেন কিন্তু ধর্মীয় কিছু দাবী দাওয়া ছিল সেগুলো আপনারা তুলে ধরেন নি। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীর পাসপোর্টটা ফেরৎ দেয়ার দাবীটাও জানাতে পারতেন আপনারা। প্রোগ্রামে শাপলা চত্বরে কেউ নিহত হয়নি বলে যে ঔদ্বত্যপুর্ণ বক্তব্য রাখা হয়েছে। তার প্রতিবাদ জানানো দরকার ছিল মঞ্চ থেকেই।

সব শেষে সামগ্রিকভাবে শোকরানা মাহফিল করা হলেও অতি বাড়াবাড়িতে হতাশ ইসলামী জনতা।
কওমী সনদের জন্য বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী হাজার বার ধন্যবাদ এবং সংবর্ধনা পাওয়ার যোগ্য। তাই বলে এদেশের আলেম ওলামা কওমী সন্তানরা কোন অন্যায় কিংবা কোন ইসলাম বিরোধী কোন রাষ্ট্রবিরোধী কাজে চুপ করে বসে থাকবেনা। অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে কওমী সন্তানরা সর্বদা আগের মতই থাকবে সোচ্চার।

#লেখক : সম্পাদক জীবন্ত কাগজ

সতর্ক বার্তা: জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর পত্রিকা ধর্ম, রাষ্ট্র ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উস্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হল। কর্তৃপক্ষ আপনার আপত্তিকর মন্তব্যের মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন। আপত্তিজনক কোন মন্তব্যের দায়ভার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ নেবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ


নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৪৪
  • দুপুর ১১:৪৮
  • বিকাল ৩:৫৫
  • সন্ধ্যা ৫:৩৬
  • রাত ৬:৫০
  • ভোর ৫:৫৬
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক: শফকত হোসাইন চাটগামী
বাঁশখালীর খবর ও জীবন্ত কাগজ একই প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ সৌদিয়া মার্কেট, বাঁশখালী পৌর সদর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: 01716741012
ইমেইল: jebontokagoj@gmail.com  ।।  safkat09@gmail.com

Developed by: NEXTZEN-IT
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ।। জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকারী জীবন্ত কাগজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত অনুমতি ও কার্টেসি বিহীন কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বিধিগত অপরাধ।