শিরোনাম
সমসাময়িক রাজনীতি:মাশরাফির মনোনয়ন

৭:৫৫ অপরাহ্ণ , ডিসেম্বর ৩, ২০১৮

সমসাময়িক রাজনীতি:মাশরাফির মনোনয়ন

♦♦মুহাম্মদ তাফহীমুল ইসলাম♦♦

একটা সময় আমাদের দেশের রাজনীতিতে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজমান ছিল। কিন্তু এখন তা কমে গিয়েছে অনেকাংশে। মানবসেবার মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল এই রাজনীতি। এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতির আঁখড়া হিসেবে। সমসাময়িক কালের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই রাজনীতি করেন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। আর সেই লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বছরের পর বছর ব্যয় করেন লক্ষ কোটি টাকা। আর নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে শুরু করেন সেই ব্যয়কৃত টাকা আয়ের প্রক্রিয়া। সেই আয় হয় অবৈধভাবে কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে। তাই আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থাকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা মুখর। কেননা, যেভাবে হোক নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। নয়তো নির্বাচনের পূর্বে ব্যয়কৃত লক্ষ-কোটি টাকা তুলবে কেমনে! যেই টাকাগুলো ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ হিসেবে নেয়া। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিকরা জিততে মরিয়া হয়ে ওঠে। উপরিউক্ত কথাগুলো অবশ্যই সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কিছু রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে কিন্তু ঠিক ভিন্ন। এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকেই আছেন, যারা সেই পূরনো ঐতিহ্য মানবসেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজনীতি করেন। তাদের উদ্দেশ্য মানুষের মাঝে বেঁচে থাকা। সমসাময়িক কালে অনেকেই আবার এই দুর্নীতির প্রতিরোধে সম্পৃক্ত হচ্ছেন রাজনীতিতে। বিশেষ করে তরুণ রাজনীতিকরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আবির্ভুত হচ্ছেন রাজনীতির ময়দানে। দলীয় সুবিধা পেলে ও ইতিবাচক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে এরাই বদলে দিতে পারে দেশকে।

বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই দেশজুড়ে বিরাজ করছে নির্বাচনী পরিবেশ। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে অনু্ষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপ। রাজনৈতিক দলগুলোর টানাপোড়নের মধ্যে গত ৮ই নভেম্বর নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ঘোষনা করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল। এতে বলা হয়েছে- ২৩শে ডিসেম্বর নির্বাচন অনু্ষ্ঠিত হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচনের তারিখ সংশোধন করে করা হয় ৩০শে ডিসেম্বর। তফসীল ঘোষনার পরপরই দেশের নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলোতে শুরু হয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ কার্যক্রম। উৎসবমুখর পরিবেশে ইতিমধ্যে বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বড় দুই দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, খেলোয়াড়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। নির্দিষ্ট কিছু বাধ্যবাধকতা ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত একজন নাগরিকের কোন বাঁধা নেই।

যাই হোক, এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সর্বাধিক আলোচিত বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাট্যকার হিরো আলমের মনোনয়ন ফরম নেয়া। মাশরাফি বিন মর্তুজা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে। আর হিরো আলম নিয়েছেন জাতীয় পার্টি থেকে। মাশরাফির মনোনয়ন ফরম নেয়াকে তাঁর অনেক ভক্তই নিয়েছে নেতিবাচকভাবে। কেননা, মাশরাফি যদি নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয় তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের কি হাল হবে? তাছাড়া মাশরাফি বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে সকল দল, মতের প্রিয়ভাজন। কিন্তু তিনি একটি রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থেকে এমপি হলে তাঁর সেই জনপ্রিয়তা থাকবে না। মূলত মাশরাফির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর ভক্তরা নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে মানতে পারছে না।

মাশরাফি বিন মর্তুজার রাজনীতিতে আসাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি। কারণ, আমাদের কলুষিত রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে মাশরাফিদের প্রয়োজন। আমাদের দেশের রাজনীতি এতোটা খারাপ পর্যায়ে উপনীত হতে পেরেছে যে, যেখানে বর্তমানে ভালো মানুষের পদচারণা অগ্রহণযোগ্য। দুর্নীতি, পারষ্পরিক বিষোদগারসহ নানা কারণে কলুষিত মানবসেবার এই মাধ্যম। মাশরাফিকে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি বলা চলে। মাশরাফি চাইলে সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বদলে দিতে পারেন দেশের তারুণ্যের চেহারাকে। মাশরাফি বিন মর্তুজা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে খেললেও হয়তো হাতেগুনা আর কয়েকটা বছর খেলবেন। এরপর বয়সের কারণে তিনি অবসর নিতে বাধ্য হবেন। তাই তাঁর অবসর সময়টা রাজনীতি তথা জনগনের সেবায় কাটানোটা দেশের জন্য, জনগনের জন্য সৌভাগ্যের।

দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে যেই রাজনীতি খ্যাতি লাভ করছে সেই রাজনীতিতে দুর্নীতিবাজদের পরিবর্তে মাশরাফিদের পদচারণা আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি। হয়তো একদিন মাশরাফিদের হাত ধরেই বাংলাদেশের সুষ্ঠু রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে, বিদায় নিতে বাধ্য হবে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি। মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, সেভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে- এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: ছড়াকার, প্রাবন্ধিক।

সতর্ক বার্তা: জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর পত্রিকা ধর্ম, রাষ্ট্র ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উস্কানীমূলক কোন মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হল। কর্তৃপক্ষ আপনার আপত্তিকর মন্তব্যের মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন। আপত্তিজনক কোন মন্তব্যের দায়ভার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ নেবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ


নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ভোর ৪:৪৪
  • দুপুর ১১:৪৮
  • বিকাল ৩:৫৫
  • সন্ধ্যা ৫:৩৬
  • রাত ৬:৫০
  • ভোর ৫:৫৬
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক: শফকত হোসাইন চাটগামী
বাঁশখালীর খবর ও জীবন্ত কাগজ একই প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ সৌদিয়া মার্কেট, বাঁশখালী পৌর সদর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: 01716741012
ইমেইল: jebontokagoj@gmail.com  ।।  safkat09@gmail.com

Developed by: NEXTZEN-IT
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ।। জীবন্ত কাগজ ও বাঁশখালীর খবর সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকারী জীবন্ত কাগজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষিত অনুমতি ও কার্টেসি বিহীন কপিরাইট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বিধিগত অপরাধ।